Advertisement
advertisement
advertisement

বাল্যবিবাহ আইন কী, এ আইনে কী সাজা রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ০১, ২০২৬, ০৬:১৭

বাল্যবিবাহ আইন কী, এ আইনে কী সাজা রয়েছে

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ এখনো একটি গভীর সামাজিক ব্যাধি। আইন, নীতি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম থাকা সত্ত্বেও দেশের বহু এলাকায় এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে।


বিশেষ করে দরিদ্র, অশিক্ষিত ও প্রান্তিক পরিবারগুলো নানা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপে পড়ে কন্যাশিশুর বিয়ে অল্প বয়সেই দিয়ে দিতে বাধ্য হয়। ফলে একটি মেয়ের শৈশব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ একসঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়ে।


বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ রোধে ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ রোধ আইন কয়েক দফা সংশোধন করে নতুন করে বাল্যবিবাহ রোধ নীতিমালা করা হয়েছে।


বাল্যবিবাহ আইন, ১৯২৯ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো শিশুকে বাল্যবিবাহ করতে বা করাতে বাধ্য করতে পারবে না। এখানে শিশু বলতে ওই ব্যক্তিকে বোঝাবে, যার বয়স পুরুষ হলে ২১ বছরের নিচে এবং নারী হলে ১৮ বছরের নিচে।


তবে ২০১৫ সালে সরকার এ নীতিমালা সংশোধন করে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ রাখলেও ১৬-তে ইচ্ছা করলে পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে দিতে পারবে বলে নির্ধারণ করা হয়।


বাল্যবিবাহ আইন, ১৯২৯-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো অভিভাবক ২১ বছর বয়সের নিচে পুরুষ বা ১৮ বয়সের নিচে কোনো মেয়ের হয়ে বাল্যবিবাহের চুক্তি করলে, তার এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে মেয়েদের শাস্তির বিধান রাখা হয়নি।


বাল্যবিবাহ নতুন আইনের খসড়া অনুযায়ী, ছেলের বয়স ২১ ও মেয়ের বয়স ১৬ বছরের কম হলে তা বাল্যবিবাহ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে। বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে আইনে বলা হয়, বিবাহকারী, বিয়ে পরিচালনাকারী ও অভিভাবককে উল্লিখিত শাস্তি দেওয়া যাবে। তবে নারীদের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড প্রযোজ্য হবে না; জরিমানার বিধান অভিন্ন থাকবে।


নতুন এ আইনে বলা হয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের বিয়ে বন্ধ করে দোষীদের সাজা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে আইনের খসড়ায়। তবে বিয়ে বাতিলের বিষয় থাকলে তা করবেন পারিবারিক আদালত।


আইনে বলা হয়, বাল্যবিবাহ বন্ধে ১৯২৯ সালের আইনে এক মাসের জেল ও এক হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল। পরে তা সংশোধন করে এক মাস জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান করা হয়। তার পরও বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটায় শাস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে নতুন আইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বরের শাস্তি


শিশু বিবাহকারী কেউ ২১ বছর বয়সোর্ধ্ব পুরুষ বা ১৮ বয়সোর্ধ্ব মহিলা হয়ে কোনো বাল্যবিবাহের চুক্তি করলে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাবাসে বা এক হাজার টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানায় বা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন।


বিয়ে পরিচালনাকারীর শাস্তি


এ ছাড়া বাল্যবিবাহ সম্পন্নকারী, অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী, নির্দেশ প্রদানকারীর এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড হবে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি না তিনি প্রমাণ করেন যে তার বিশ্বাস করার কারণ ছিল, ওই বিয়ে কোনো বাল্যবিবাহ ছিল না।


অভিভাবকের শাস্তি


বাল্যবিবাহের চুক্তি করেছেন এমন ভারপ্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তি, বাবা-মা বা অভিভাবককে ধরা হবে তিনি বা তারা উক্ত বিয়েতে উৎসাহদানের কাজ করেছেন অথবা ওই বিয়ে বন্ধ করায় অবহেলা করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি এক মাস পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা এক হাজার টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানায় বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।



google-news-feed
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফাহিমকে কারাগারে পাঠাতে আবেদন পুলিশের

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফাহিমকে কারাগারে পাঠাতে আবেদন পুলিশের

সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সাংবাদিক শওকত মাহমুদ গ্রেফতার

সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সাংবাদিক শওকত মাহমুদ গ্রেফতার

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ পাস চান বিচারকরা

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ পাস চান বিচারকরা

ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান মামুন দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে

ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান মামুন দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে

এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

চাঁদা দাবির মামলায় মোজাম্মেলের বিচার শুরু, খালাসে আপত্তি নেই বাদীর

চাঁদা দাবির মামলায় মোজাম্মেলের বিচার শুরু, খালাসে আপত্তি নেই বাদীর

Advertisement
advertisement
সর্বশেষ সংবাদ